ব্লেন্ডার্স প্রাইড ফ্যাশন ট্যুর গড়ে তুলল ফ্যাশনের নতুন বিপ্লবহুগলি নদীর বুকে নজিরবিহীন গ্র্যান্ড ফিনালেতে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত হল ভারতীয় ক্রাফ্ট ও ফ্যাশনের ভবিষ্যৎ
কলকাতা, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫:
২০২৫ সালের ব্লেন্ডার্স প্রাইড ফ্যাশন ট্যুর-এর পর্দা নামল কলকাতায় এক অভূতপূর্ব ও সাহসী ফ্যাশন আখ্যানের মধ্য দিয়ে। ঐতিহাসিক হাওড়া ব্রিজকে পটভূমিতে রেখে শহরের প্রাণকেন্দ্র হুগলি নদীকে রূপান্তরিত করা হয় এক ব্যতিক্রমী ভাসমান রানওয়েতে। এই গ্র্যান্ড ফিনালে ফ্যাশনের প্রচলিত ধ্যানধারণাকে ভেঙে এক নতুন যুগের সূচনা করল।
ফ্যাশন ডিজাইন কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া (FDCI)-র সহযোগিতায় এই বিশেষ শো-তে উপস্থাপিত হয় খ্যাতনামা ডিজাইনার অনামিকা খান্না (AK | OK)-র পরীক্ষামূলক ও সাহসী কালেকশন। শো-স্টপার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা ইশান খট্টর। এই প্রদর্শনীতে ক্রাফ্টকে শুধুমাত্র ঐতিহ্য হিসেবে নয়, বরং এক চলমান ও বিবর্তনশীল সৃজনশীল শক্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়।
অনামিকা খান্নার কালেকশনে ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্প যেমন জরদৌজি, চিকনকারি ও মিরর ওয়ার্ক-কে ভেঙে নতুনভাবে নির্মাণ করা হয়। ভবিষ্যতমুখী কাটিং, ধাতব উপাদান এবং কসমিক অনুপ্রেরণায় তৈরি গ্রাফিক্সের মাধ্যমে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার এক অনন্য মেলবন্ধন সৃষ্টি হয়।
হুগলি নদীর মাঝখানে নোঙর করা একটি বার্জে এই শো অনুষ্ঠিত হয়, যা পরিণত হয় এক ভাসমান ফ্যাশন থিয়েটারে। ডাইভারদের নাটকীয় প্রবেশের মধ্য দিয়ে শো-এর সূচনা হয়। আলো, ধোঁয়া ও শব্দের সমন্বয়ে তৈরি হয় এক ইমার্সিভ অভিজ্ঞতা। প্রতিটি পদক্ষেপের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে থাকে লেজার লাইট, যা শো-এর গতি ও উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
চেইনমেল পোশাকের শক্তিশালী উপস্থাপনার পর দেখা যায় গতিশীল ভাস্কর্যসদৃশ সিলুয়েট। শো-এর চূড়ান্ত মুহূর্তে স্পিডবোটে করে ইশান খট্টরের আগমন দর্শকদের মুগ্ধ করে, হাওড়া ব্রিজের পটভূমিতে এক স্মরণীয় সমাপ্তি টানে।
অনুষ্ঠানে আরও একটি বিশেষ আকর্ষণ ছিল দ্য বেঙ্গল প্যাডল জাহাজ, যেখানে শহরের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের আতিথ্য দেওয়া হয়। জাহাজের ঐতিহাসিক ইন্টেরিয়র এবং বয়লার রুমে অবস্থিত রিভারাইন মিউজিয়াম, যেখানে হুগলি নদীর ঐতিহ্য তুলে ধরা দুর্লভ সামুদ্রিক নিদর্শন ও শিল্পকর্ম প্রদর্শিত হয়, পুরো সন্ধ্যাকে দেয় এক সাংস্কৃতিক গভীরতা।
এই উপলক্ষে পার্নো রিকার্ড ইন্ডিয়া-র চিফ মার্কেটিং অফিসার দেবাশ্রী দাশগুপ্ত বলেন,
“ব্লেন্ডার্স প্রাইড ফ্যাশন ট্যুর সবসময়ই ফ্যাশন ও সংস্কৃতির আলোচনায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। এই সংস্করণের শেষ অধ্যায় হিসেবে কলকাতা প্রমাণ করল, কীভাবে ঐতিহ্য ও উদ্ভাবনের মিলনে ফ্যাশন সত্যিই রূপান্তরিত হতে পারে। ‘Future Is Crafted’ শুধু একটি শো নয়, এটি ছিল একটি শক্তিশালী বার্তা।”
ডিজাইনার অনামিকা খান্না বলেন,
“ব্লেন্ডার্স প্রাইড ফ্যাশন ট্যুর-এর সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করে ভারতীয় কারুশিল্পকে আধুনিক প্রেক্ষাপটে ভেঙে নতুনভাবে উপস্থাপন করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। দর্শকদের এই সাহসী পুনর্নির্মাণ গ্রহণ করতে দেখা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক।”
শো-স্টপার ইশান খট্টর বলেন,
“ব্লেন্ডার্স প্রাইড ফ্যাশন ট্যুর-এর অংশ হতে পেরে আমি দারুণ উচ্ছ্বসিত। এটি আমার নিজের পরীক্ষামূলক ভাবনার সঙ্গে পুরোপুরি মানানসই। এমন এক আইকনিক পরিবেশে দাঁড়িয়ে ফ্যাশনের ভবিষ্যৎ গঠনের অংশ হওয়া সত্যিই বিশেষ অনুভূতি।”
FDCI-এর চেয়ারম্যান সুনীল শেঠি বলেন,
“ব্লেন্ডার্স প্রাইড ফ্যাশন ট্যুর-এর সঙ্গে সহযোগিতা করতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। কলকাতা সংস্করণে সৃজনশীলতা ও সংস্কৃতির যে উদযাপন দেখা গেল, তা ভারতীয় ফ্যাশনের ভবিষ্যতের দিশা নির্ধারণ করে দিল